Monday, 12 April - 2021
Monday, 12 April 2021

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার এর জেল সুপারসহ ১১ জন বরখাস্ত

কারাগারে নারীর সঙ্গে সময় কাটানোর ঘটনায় গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এর জ্যেষ্ঠ জেল সুপার, জেলার ও ডেপুটি জেলারসহ ১১ জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সাতজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিধি লঙ্ঘন করে হল-মার্কের কারাবন্দি মহাব্যবস্থাপক (জিএম) তুষার আহমদ’র নারীর সঙ্গে সময় কাটানোর ঘটনায় তখন কারাগারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

বৃহস্পতিবার বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ বার্তাবাহক এ সংক্রান্ত চিঠি নিয়ে কারা সদর দপ্তরে যান।

কারা মহাপরিদর্শক ঢাকার বাইরে সফরে থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এক কর্মকর্তা সেটি গ্রহণ করেন।

রোববার মহাপরিদর্শক চিঠিটি খুলে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন।

কারা অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, বরখাস্তকৃতদের মধ্যে রয়েছেন তখনকার জ্যেষ্ঠ জেল সুপার রত্না রায়, জেলার নূর মোহাম্মদ মৃধা, ডেপুটি জেলার গোলাম সাকলায়েন, ছয়জন কারারক্ষী, একজন সহকারী প্রধান কারারক্ষী ও সার্জেন্ট ইনস্ট্রাক্টর।

বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি কারা সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে ২৫টি সুপারিশ করা হয়।

যেখানে আছে ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা, চাকরিবিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার।

এর আগে গত ২১ জানুয়ারি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার এর ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কারা কর্তৃপক্ষ।

তদন্ত শুরুর পর কাশিমপুর-১ কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার রত্না রায়, জেলার নূর মোহাম্মদ মৃধা, ডেপুটি জেলার গোলাম সাকলায়েনকে কারা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।

গত বুধবার তদন্ত কমিটি সুরক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার এর ঘটনাটি কি ছিল?

৬ জানুয়ারির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কারাগারের ভেতরে কর্মকর্তাদের অফিস এলাকায় কালো রঙের জামা পরে ঘোরাফেরা করছেন তুষার আহমদ।

কিছু সময় পর বাইরে থেকে বেগুনি রঙের জামা পরা এক নারী সেখানে আসেন।

এ সময় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার রত্না রায় ও ডেপুটি জেলার গোলাম সাকলায়েন সেখানে ছিলেন।

দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে দুই যুবকের সঙ্গে ওই নারী কারাগারের কর্মকর্তাদের কক্ষের দিকে যান।

সেখানে ওই নারীকে ডেপুটি জেলার সাকলায়েন স্বাগত জানান।

ওই নারী কক্ষে ঢোকার পর সাকলায়েন বেরিয়ে যান। আনুমানিক ১০ মিনিট পর তুষারকে সেখানে নিয়ে যান সাকলায়েন।

এর প্রায় ১০ মিনিট পর রত্না তার কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। দুই মিনিট পর রত্নার কক্ষের দিকে যান তুষার।

আরও দুই মিনিট পর সেখান থেকে বেরিয়ে ওই নারীকে নিয়ে আবার রত্নার কক্ষে যান তুষার।

যাওয়ার সময় তাদের হাসি-তামাশা করতে দেখা যায়।

এর দুই মিনিট পর তুষার ও ওই নারী সাকলায়েনের কক্ষে ফেরেন। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর তারা বের হন।