মঙ্গলবার, ২ মার্চ - ২০২১
মঙ্গলবার, ২ মার্চ - ২০২১
মঙ্গলবার, ২ মার্চ ২০২১

‘খেতাব নিলেও জিয়াউর রহমান থাকবেন জনগণের হৃদয়ে চির অম্লান’

মুক্তিযুদ্ধের রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিলের কোনো এখতিয়ার জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল-জামুকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন খেতাবপ্রাপ্ত দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও শাহজাহান ওমর। বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের দুই ভাইস চেয়ারম্যান এমন মন্তব্য করেন।

মুক্তিযুদ্ধকালে ‘ফেড’ ফোর্সের ‘এ’ ও ‘বি’ কোম্পানির কমান্ডার ছিলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং ৯নং সেক্টরের সাব- সেক্টার কমান্ডার ছিলেন শাহজাহান ওমর বীর উত্তম।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জামুকার এগুলো কাজ না, জামুকা হলো কে ভাতা পাবে কি পাবে না, কে মুক্তিযোদ্ধা, কে মুক্তিযোদ্ধা হবে না।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণকে আর হাস্যস্পদ করবেন না। এই উদ্যোগ যদি বাস্তবায়িত হয় তাহলে আপনি আপনার পিতাকে অসম্মান করছেন। এই খেতাব নিলে কী গেল- কিছু আসে যায় না, তিনি এখন মৃত। খেতাব নিলেও জিয়াউর রহমান জিয়াউর রহমান থাকবেন, লক্ষ-কোটি মানুষের কাছে, অনাগত ভবিষ্যতের কাছে তিনি এই দেশের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা রূপেই ইতিহাসে চিহ্নিত থাকবেন এবং জনগণের হৃদয়ে শ্রদ্ধার আসন তার চির অম্লান থাকবে।

দলের আরেক ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তিন ধরনের মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। একটা হচ্ছে মিলিটারি ফোর্স, আরেকটা হলো ফ্রিডম ফাইটার, তিন নাম্বার হল যুদ্ধের শেষ দিকে বিএলএফ নামে এটা সংগঠন গঠন করা হয়েছিল যার বাংলা ‘মুজিব বাহিনী’। আমরা যারা মিলিটারি ফোর্স আমাদের কন্ট্রোল করে কোর নামে একটা সংস্থা আছে- সেন্টার অফিসার্স রেকর্ড অফিস। আমাদের সঙ্গে জামুকার কোনো সম্পর্ক নাই। তৎকালীন ছাত্র-কৃষক-যুব-শ্রমিক যারা যুদ্ধে গেছেন, ট্রেনিং করেছেন, আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করে যুদ্ধ করেছেন- তাদের ভাতা, তাদের সম্মানী, তাদের সুযোগ-সুবিধা কিভাবে অধিক থেকে অধিকতর দেয়া যায় তাই জামুকার কাজ।

তিনি বলেন, জামুকা তাদের নিজস্ব বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এটা তাদের এখতিয়ার বহির্ভূত এবং আমাদের মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী যে কথা বলেছে এটাও তার এখতিয়ার বহির্ভূত। এখন প্রশ্ন দাঁড়াল- বীরউত্তম, বীরশ্রেষ্ঠ, বীর বিক্রম, বীর প্রতীক- মামা বাড়ির আবদার নাকি না ছেলের বাড়ির মোয়া। যখন চাইবেন মামার বাড়ির হারটা কেড়ে নেবেন। এটা তো আমরা যুদ্ধ করে অর্জন করেছি। কেউ আমাকে এই খেতাব দয়ায় দেয়নি। এই খেতাব কেড়ে নেয়ার আপনারা কে?