মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

তালেবান সরকার অব্যাহত বিক্ষোভের মুখেই যাত্রা শুরু করেছে

নারীদের নেতৃত্বে ছোট ছোট নানান প্রতিবাদ কর্মসূচি নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে

ঢাকা

নবগঠিত তালেবান সরকার বিক্ষোভের মুখেই পথচলা শুরু করল। সব জাতি-গোত্র নিয়ে সরকার গঠনের কথা থাকলেও শেষপর্যন্ত তালেবান নেতাদের নিয়েই অন্তর্বর্তী সরকারের যাত্রা শুরু করেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ নারীসমাজের একাংশ। কারণ মন্ত্রিসভায় নারীদের রাখেনি তালেবান। উলটো নারীশিক্ষায় নতুন ডিক্রি জারি করেছে।

হিজাব, নেকাব বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শ্রেণিকক্ষেও ছেলেমেয়ের মাঝে পর্দা টাঙানোর নতুন আইন করেছেন তালেবান উচ্চশিক্ষামন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

এসব নিয়েই কাবুল হেরাতসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। বুধবার রাজধানী কাবুলে তালেবানবিরোধী সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করে সশস্ত্র যোদ্ধারা।

অন্যদিকে আফগান গণমাধ্যম রিপোর্ট করেছে উত্তর-পূর্ব শহর ফৈজাবাদে একটি বিক্ষোভ বড় হতে দেয়নি তালেবান।

মঙ্গলবার রাজধানী এবং হেরাত শহরে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করে, যেখানে দুই বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

অব্যাহত বিক্ষোভের মুখে তালেবান সরকার

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবারের বিক্ষোভে একদল আফগান নারী রাস্তার পাশে হাঁটু মুড়ে সামনের দিকে ঝুঁকে নিজেদের রক্ষায় সচেষ্ট হন এবং পরে নিরাপদ স্থানে সরে যান।

এর মধ্যেই এক নারী তাদের দিকে তাক করা ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে অনর্গল বলে যান তালেবান শাসনামল নিয়ে তার আপত্তি আর ভবিষ্যৎ দুশ্চিন্তার কথা।

তিনি বলেন, ‘এরা (তালেবান) খুব খারাপ, তারা মানুষই নয়। আমাদের বিক্ষোভের অধিকারটুকুও দিচ্ছে না। তারা মুসলিম তো নয়ই, তারা কাফের।’

বিজ্ঞাপন

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তালেবানরা কাবুল দখল করেছে মাস পার হতে চললেও এ ধরনের বিক্ষোভ, তালেবান সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়েই হাজির হচ্ছে।

অবশ্য তালেবান আফগানদের খানিকটা ধৈর্য ধরতে বলেছিল; জনগণের দাবিদাওয়ার দিকে নজর দিতে নতুন সরকার গঠন পর্যন্ত সময়ও চেয়েছিল তারা।

নারীদের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে তালেবানের এক মুখপাত্র বলেন, ‘তাদেরকে কিছু সময় ধৈর্য ধরতে বলা হয়েছে।

যখন সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সংগঠনগুলো কাজ করা শুরু করবে তখন তারা আপনাদের কাছে যাবে।’

আফগানিস্তানজুড়ে কিছুদিনের বিক্ষোভগুলোতে অংশ নেওয়া নারীরা মূলত তাদের অধিকারের দাবিতেই সরব রয়েছেন।

মার্কিনিদের বিরুদ্ধে বিজয় উদ্যাপনের পর তালেবান দলমত নির্বিশেষে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

কিন্তু পর্যবেক্ষকদের মতে, মঙ্গলবার রাতে ঘোষিত আফগানিস্তান সরকারের শীর্ষ পদ তুলে দেওয়া হয়েছে তালেবান ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের শীর্ষ নেতাদের হাতে।

যদিও তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছিলেন, ‘আমরা দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে লোক নেওয়ার চেষ্টা করব।’ আদতে তা হয়নি।

তালেবানের গোপন শীর্ষ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলেন, ‘নতুন সরকার ইসলামি নিয়ম ও শরিয়া আইন সমুন্নত রাখার জন্য কঠোর পরিশ্রম করবে।’

তালেবানরা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আগের শাসনামলের তুলনায় অনেক বেশি সংযমের সঙ্গে এবারের শাসনকাজ চালাবে।

বিজ্ঞাপন

থেকে আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন