মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

বিচ্ছিন্ন ঢাকা: বাস ও লঞ্চের পর এবার বন্ধ করা হলো ট্রেন চলাচল

ঢাকা

ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এ অবস্থায় রাজধানীকে বিচ্ছিন্ন রাখতে বাস ও লঞ্চের পর এবার বন্ধ করে দেওয়া হলো ট্রেন চলাচল।

মানুষ যাতে রাজধানী থেকে বের হতে বা প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে কড়া অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

দূরপাল্লার ও আন্তজেলা বাস চলতে দেওয়া হয়নি। সদরঘাট থেকে লঞ্চও ছেড়ে যায়নি। দিনে কিছু ট্রেন ছেড়ে গেছে, যেগুলো লকডাউনে থাকা সাত জেলায় থামেনি।

বিজ্ঞাপন

এরপর রাতে ঘোষণা আসে যে রেল চলাচলও বন্ধ থাকবে। সেটা কার্যকর হয়েছে গতকাল মধ্যরাত থেকেই।

সব মিলিয়ে এক দিন, দুই দিন নয়, মোট নয় দিনের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল রাজধানী। ঘোষণা অনুযায়ী, ৩০ জুন পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

বাস-লঞ্চ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন কাজে ঢাকায় আসা ও ঢাকার বাইরে যাওয়া মানুষ বিপাকে পড়েছেন।

বিজ্ঞাপন

যাঁরা রাজধানীতে থাকেন, কিন্তু কাজ করেন ঢাকার আশপাশের শিল্পঘন এলাকাগুলোর কারখানায়, তাঁদেরও ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

আবার অনেকে ঢাকার আশপাশে থাকেন, কিন্তু কর্মস্থল রাজধানীতে, তাঁদেরও দুর্ভোগের কোনো শেষ ছিল না।

ঢাকার চার পাশের জেলায় ‘লকডাউনের’ প্রথম দিন রাজধানী থেকে বাস ও লঞ্চ ছেড়ে যায়নি। পথে মানুষের ভোগান্তি।

বাড়ছে করোনা সংক্রমণ

বিজ্ঞাপন

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার সকাল আটটা থেকে গতকাল সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মোট ২৫ হাজার ২৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

এর মধ্যে ৪ হাজার ৮৪৬ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ছিল ১৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ সময়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৭ জন খুলনা বিভাগের বাসিন্দা। ঢাকা ও রাজশাহীতে মারা গেছেন ১৪ জন করে। বাকিরা অন্যান্য বিভাগের।

বিপরীতে ঢাকায় সংক্রমণ ও মৃত্যু আগের তুলনায় কম। এ অবস্থা রাজধানীকে বিচ্ছিন্ন রাখতে গত সোমবার হঠাৎ করে আশপাশের চারটিসহ সাত জেলায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা কার্যকর হয়েছে গতকাল সকাল থেকে। এই সাত জেলা হলো মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জ। এ জেলাগুলো দিয়ে যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ফলে ঢাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এখন নিষেধাজ্ঞার বাইরে শুধু উড়োজাহাজ।

ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার বাস, টার্মিনালে মানুষের ভিড়

রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে গতকাল ভোর থেকে কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। যদিও অনেকেই বাসের জন্য টার্মিনালে ভিড় করেন। বেশির ভাগের দাবি, তাঁরা নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানতেন না। অনেকে জরুরি প্রয়োজনে ঢাকার বাইরে যাওয়ার জন্য বের হয়েছেন।

সায়েদাবাদের মতো গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে গতকাল কোনো বাস ছাড়েনি। টার্মিনালে বাসের টিকিট কাউন্টারগুলো বন্ধ ছিল। আমিনবাজার ও আবদুল্লাহপুরে পুলিশের কড়াকড়ি দেখা যায়। বাস না চলায় পোশাকশ্রমিকদের অনেকে কর্মস্থলে যেতে ভোগান্তিতে পড়েন। অনেকেই হেঁটে কারখানায় যান।

বন্ধ হয়েছে রেল চলাচল ও নৌযান

কমলাপুর রেলস্টেশনে গতকাল যাত্রীদের বেশ ভিড় দেখা গেছে। জরুরি প্রয়োজনে অগ্রিম টিকিট কাটতে গিয়েছিলেন অনেকে। কিন্তু অধিকাংশ আন্তনগর ট্রেনের ২৫ জুন পর্যন্ত টিকিট বিক্রি শেষ।

এরি মধ্যে রাতে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম গনমাধ্যমকে জানান, ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঢাকায় কোনো ট্রেন ঢুকবে না, বেরও হবে না।

তবে চট্টগ্রাম থেকে সিলেট, চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুরের পথের ট্রেন চলাচল করবে।

ঢাকা থেকে সারা দেশে সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধের পর গতকাল সদরঘাট থেকে অনেক যাত্রীকে ফিরে যেতে হয়।

শ্রমিকের সংসার কীভাবে চলছে, কেউ খোঁজ নেয় না

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে দেশে গত ৫ এপ্রিল থেকে বিধিনিষেধ জারি করা হয়। এতে বন্ধ হয়ে যায় দূরপাল্লার বাস ও লঞ্চ।

ঈদুল ফিতরের পর ২৪ মে থেকে বাস ও লঞ্চ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন শ্রমিকেরা। আবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

কথার ছলে এক শ্রমিক তার মনের ভাব প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ’কিছুদিন পরপর সরকার বাস চলা বন্ধ করে দেয়। দেড় বছর ধরে সংসার কীভাবে চলছে, সে খোঁজ তো কেউ রাখে না।’

বিজ্ঞাপন

থেকে আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন