Monday, 12 April - 2021
Monday, 12 April 2021

মওদুদ আহমদের মৃত্যুতে শোকাহত আসিফ নজরুলের আবেগঘন স্ট্যাটাস

প্রবীণ আইনজীবী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও উপরাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মৃত্যুতে শোকাহত আইনের শিক্ষক ড. আসিফ আসিফ নজরুলের আবেগঘন স্ট্যাটাস।

মওদুদ আহমদের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক। সাবেক আইনমন্ত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়ে মঙ্গলবার মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দেন আসিফ নজরুল। আবেগঘন স্ট্যাটাসটি নেটিজনদের দৃষ্টি এড়ায়নি।

আসিফ নজরুল তার স্ট্যাটাসে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করেন। আইনজীবী মওদুদের লেখালেখির প্রশংসাও করেন তিনি।

মওদুদ আহমদের মৃত্যুতে শোকাহত আসিফ নজরুলের স্ট্যাটাসটি পাঠকদের উদ্দেশে হুবহু তুলে ধরা হলো

‘প্রিয় মওদুদ স্যার,
আপনি আর ফিরবেন না, হয়তো এটা জানতাম। হাসনা আপার (মওদুদের স্ত্রী হাসনা মওদুদ) ফেসবুক স্ট্যাটাসে স্পষ্ট বলা ছিল সব। পরে আপনার মৃত্যুর সংবাদ পড়ে দেখি ৮২ বছর বেঁচেছিলেন। খুব একটা দুঃখ তাই আমাদের পাওয়ার কথা না।

কিন্তু তবু আমার মন ভার হয়ে আছে। আপনার হাসি, রসবোধ আর পাণ্ডিত্য মিস করব।

রাজনৈতিক আর শাসনতান্ত্রিক ইতিহাস নিয়ে আপনার অসাধারণ বইগুলোর কথা মানুষকে বলব। মুক্তিযুদ্ধে আপনার অবদান চিরদিন শ্রদ্ধা করে স্মরণ করব।

জীবনে মাত্র তিন-চারবার দেখা হয়েছে আপনার সঙ্গে। কিন্তু আশ্চর্য এক বেদনা হয়ে আছেন আমার সঙ্গে এখন।

আমার ভালোবাসা নিন। দোয়া করি, আল্লাহ্ যেন আপনাকে ভালো রাখেন।’

প্রবীণ এই আইনজীবীকে নিয়ে আসিফ নজরুলের এই স্ট্যাটাস ভাইরাল হয়ে গেছে।

এরমধ্যে ৫০ হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারী এতে লাইক দিয়েছেন। ৩ হাজার ১০০ মানুষ এতে মন্তব্য করেছেন। আর শেয়ার দিয়েছেন ৫ শতাধিক ফেসবুক ব্যবহারকারী।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে সিঙ্গাপুর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমান উপমহাদেশের বিখ্যাত আইনজীবী মওদুদ।

মওদুদ আহমদের একান্ত সহকারী মোমিনুর রহমান সুজন জানান, মওদুদ হাসপাতালে আইসিইউতে ছিলেন।

কয়েক দিন ধরেই তার অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। ফুসফুসে পানি জমে ছিল। যার কারণে ফুসফুসে অক্সিজেন গ্রহণ ক্ষমতা একেবারেই কমে গিয়েছিল। পাশাপাশি তার কিডনি জটিলতাও দেখা দিয়েছিল।

রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ হ্রাস, বুকে ব্যথা অনুভব করলে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর মওদুদকে ঢাকায় এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে তার হার্টে ব্লক ধরা পড়ায় হৃদযন্ত্রে স্থায়ী পেসমেকার বসানো হয়। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি সিসিইউ থেকে তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। ২০ জানুয়ারি হাসপাতাল থেকে বাসায় নেওয়া হয়।

এর পর ২১ জানুয়ারি তাকে আবারও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২ ফেব্রুয়ারি সিঙ্গাপুর যান। মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে তার স্ত্রী হাসনা জসীমউদদীন ছিলেন।

মওদুদ আহমদের বর্ণাঢ্য জীবন

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ১৯৪০ সালের ২৪ মে নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার শ্বশুর পল্লীকবি জসীমউদদীন।

স্ত্রী হাসনা জসীমউদদীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও সাবেক এমপি।

ব্যারিস্টার মওদুদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করে লন্ডনস্থ লিঙ্কন্স ইন থেকে বার অ্যাট ল ডিগ্রি অর্জন করেন।

লন্ডনে পড়াশোনা করে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং হাইকোর্টে ওকালতি শুরু করেন।

তিনি ব্র্যান্ড ভিজিটিং প্রফেসর হিসাবে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।

ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের আপ্যায়ন সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলাফত রব্বানীর ছাত্র সংগঠন ছাত্রশক্তির নেতা ছিলেন।

ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যোগ দিয়ে পুলিশি নির্যাতনের পর ঠাঁই হয়েছিল কারাগারে।

১৯৭১-এ ইয়াহিয়া খান আহূত গোলটেবিল বৈঠকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ।

পেশাজীবী হিসাবে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর আইনজীবী, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, মানবাধিকার আইনজীবী হিসাবে নানা ভূমিকায় নিজেকে রেখেছিলেন রাজনীতির কক্ষপথেই।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৭-৭৯ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টা ছিলেন।

১৯৭৯ সালে তিনি প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং তাকে উপপ্রধানমন্ত্রী করা হয়।

১৯৮৫ সালের নির্বাচনে মওদুদ আহমদ আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং সরকারের তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

এক বছর পর ১৯৮৬ সালে তাকে আবার উপপ্রধানমন্ত্রী করা হয়। ১৯৮৮ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন।

১৯৮৯ সালে তাকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং এর পর তাকে উপরাষ্ট্রপতি করা হয়।

জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯১ সালে মওদুদ আহমদ আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০১ সালেও তিনি বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

পাঁচবার মওদুদ আহমদ নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ আসন থেকে নির্বাচিত হন।