মঙ্গলবার, ২ মার্চ - ২০২১
মঙ্গলবার, ২ মার্চ - ২০২১
মঙ্গলবার, ২ মার্চ ২০২১

মিয়ানমারে আন্দোলন অসহযোগ থেকে প্রতিরোধে রূপ নিচ্ছে

অভ্যুত্থানের পর দুই সপ্তাহের মধ্যে মিয়ানমারে সর্বাত্মক রূপ নিয়েছে আন্দোলন সংগ্রাম। শুরুটা অসহযোগ দিয়ে হলেও এখন ক্রমেই প্রতিরোধ আন্দোলনের দিকে যাচ্ছে জনগণ।

মিয়ানমারের গত কয়েক দিনের বিক্ষোভের ছবিই তার বড় প্রমাণ। দেশজুড়ে আগেই বন্ধ করা হয়েছে হাসপাতাল-ক্লিনিক।

কর্মবিরতি পালন করছেন চিতিৎসক-নার্সরা। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে তালা মেরে রাস্তায় নেমেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা। রাস্তায় বাসের চাকা ঘুরছে না; রেললাইনে চলছে না ট্রেন। সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এবার গাড়ি দিয়ে পুরো ইয়াঙ্গুন শহর অবরোধ করেছে জনতা। সেনা-পুলিশের ধরপাকড়, রাবার বুলেট-জলকামান থেকে বাঁচতেই এই কৌশল। রয়টার্স, দ্য ইরাবতি, মিয়ানমার নাও।

দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে টানা বিক্ষোভের পর চলতি সপ্তাহে আন্দোলনের কৌশল বদলে ফেলে বিক্ষোভকারীরা। মঙ্গলবার ইয়াঙ্গুন ও দক্ষিণাঞ্চলীয় মন রাজ্যের মধ্যকার একটি রেললাইন বন্ধ করে দেয় তারা।

বুধবার সর্বাধিক জনবসতির শহর ইয়াঙ্গুনের সব বড় সড়ক ও সেতুর ওপর নিজেদের গাড়ি ফেলে অবরোধ করে অভ্যুত্থানবিরোধীরা। এরপর শহরের কেন্দ্রে বিশাল সমাবেশ করে। যাতে অংশ নেয় লাখো মানুষ। একেবারেই নতুন ধরনের এই আন্দোলনে যোগ দেয় ইয়াঙ্গুনের রেকর্ড সংখ্যক গাড়ি।

এভাবে হাজার হাজার গাড়ি রাস্তার ওপর থাকায় প্রধান সড়ক এবং সেতুগুলোর ওপর হঠাৎই যানজট তৈরি হয়। সৃষ্টি হয় অচলাবস্থা। গাড়ির চালকদের ভাবটা এমন যেন গাড়ির ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে গেছে। পুলিশ এসে এভাবে রাস্তায় গাড়ি রাখার কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা বলছে, গাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে বা তেল ফুরিয়ে গেছে।

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিদিনই ভিন্ন ভিন্ন ও অদ্ভুত পন্থায় বিক্ষোভ হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি হাঁড়ি-পাতিল-ঘটি-বাটি বাজানো থেকে শুরু করে রাস্তায় বড় বড় বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছে দেশটির রাজনীতিসচেতন জনগণ। সেই সঙ্গে অব্যাহত রয়েছে অসহযোগ আন্দোলন। এটা অনেকটা করোনাভাইরাস মহামারীর মতো ‘নিউ নরমাল’।

কিন্তু ক্রমবর্ধমান এই বিক্ষোভ-আন্দোলন ঠেকাতে নানা ফন্দি-ফিকির করছে সেনা কর্তৃপক্ষ। দিনের বেলায় বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে কখনো রাবার বুলেট-টিয়ার গ্যাস-জলকামান আবার কখনো সরাসরি তাজা গুলি ছুড়ছে। রাতে চলছে গুম, অপহরণ ও ধরপাকড়।

বিবিসি জানিয়েছে, বুধবার সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে ইয়াঙ্গুনের লাখো নাগরিক বিক্ষোভে অংশ নেয়। এদিন তারা সেনাবাহিনীর ‘ভোট জালিয়াতি’র দাবি প্রত্যাখ্যানে এই বিক্ষোভে অংশ নেয়। প্রায় এক দিনের ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্রোকেন ডাউন কার ক্যাম্পেইন’ প্রচারণা শুরু করে বিক্ষোভকারীরা।

‘রোড ব্লকিং ডে’ শিরোনাম দিয়ে অনেকেই সড়কে যানবাহন ফেলে রাখার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে।

এসব ছবিতে দেখা যায় বনেট ও বুট খুলে ইয়াঙ্গুনের সড়কগুলোতে গাড়ি পার্ক করে রাখা হয়েছে। এর ফলে ওই সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অনেকে নিজেদের যান দিয়ে অবরোধে যোগ দেয়। আবার কেউ রিকশা সড়কে ফেলে অবরোধে সমর্থন জানায়। ইয়াঙ্গুনের স্টপেজগুলোতে অনেক সরকারি বাস থেমে থাকতে দেখা গেছে।